মোবাইলের ব্যাটারি ও চার্জ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো জেনে নিন



সারারাত ফোন চার্জ দিয়ে রাখা কি অনুচিত? স্মার্টফোন পুনরায় চার্জ দেয়ার জন্য আপনার কি সম্পূর্ণ চার্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত? পাওয়ার সেভিং মুড কখন ব্যবহার করবেন? মোবাইল চার্জ দেয়ার সময় কি ফোন ব্যবহার করা উচিত? এরকম অনেকগুলো বিষয়ে বিভিন্ন ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে। চলুন দেখে নিই এরকম ১০টি ভুল ধারণা এবং সেগুলোর সঠিক তথ্যও জেনে নিই।

ভুল ধারণা ১ – সারারাত ফোন চার্জে লাগিয়ে রাখা অনুচিত।

সঠিক তথ্যঃ অনেকেই দিনে ফোন চার্জে দেয়ার সময় পাননা। তারা রাতে ঘুমানোর আগে স্মার্টফোনটি চার্জে রেখে দিতে পছন্দ করেন। সাধারণত এতে ফোনের ক্ষতি হওয়ার কিছু নেই। মোবাইল ফোনের স্মার্ট প্রযুক্তি আপনার ফোনে সম্পূর্ণ চার্জ হওয়ার পর এর ব্যাটারিতে আর চার্জ দেওয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেয়। যদি চার্জ কখনো একটু পড়ে যায়, তাহলে ফোন সেই চার্জটুকু চার্জার থেকে আবার পূরণ করে নেয়। আরেকটা কথা, ফোনে যদি কোনো সমস্যা থাকেই, তাহলে সেটা চার্জ দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা না রাখলেও কয়েক মিনিটেও সেই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য, ঘুমানোর সময় বিছানায় ফোন নিয়ে চার্জ না দেয়াই ভালো। তাহলে ফোনে আগুন লাগা বা এ জাতীয় দুর্ঘটনা থেকে নিজে অন্তত নিরাপদ থাকতে পারেন।

ভুল ধারণা ২ – ফোন সবসময় পাওয়ার সেভিং বা লো পাওয়ার মুডে ব্যবহার করা ভালো।

সঠিক তথ্যঃ পাওয়ার সেভিং বা লো পাওয়ার মুড আপনার ফোনে রাখা কোনো সফটওয়্যারের কোনো ক্ষতি করেনা, কিন্তু এই ফিচার চালু করলে আপনি ফোনের সম্পূর্ণ সুবিধা পাবেননা। ফোনগুলো মূলত আপনাকে সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যখন আপনি ফোনের ব্যাটারি সেভিং মুড চালু করেন, তখন ফোনের বেশিরভাগ ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ হয়ে যায়। ডিসপ্লের আলো কমে যায়, যা আপনার দেখতে সমস্যা সৃষ্টি করে, ফোনের সাউন্ড ততটা জোড়ালো থাকেনা যতটা আপনি হয়ত পছন্দ করেন। নোটিফিকেশন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং আপনি তাৎক্ষণিক তথ্য পাবেননা। তাই ব্যাটারি/পাওয়ার সেভিং মুড শুধুমাত্র তখনই চালু করা উচিত যখন ফোনের চার্জ একদম কমে যায় এবং আপনি শীঘ্রই ফোনে চার্জ দিতে পারছেননা।

ভুল ধারণা ৩ – পাবলিক চার্জিং পয়েন্টে ফোন চার্জ দেয়ায় ক্ষতির কিছু নেই।

সঠিক তথ্যঃ পাবলিক চার্জিং পোর্ট ব্যবহার আপনার স্মার্টফোনে থাকা তথ্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। যে কর্ড আপনি রেস্টুরেন্টে বা এয়ারপোর্টের পাবলিক চার্জিং পয়েন্টে দেখে থাকেন, সেগুলো তথ্য আদান প্রদানে সমর্থ। এগুলোতে ফোন কানেক্ট করলে হ্যাকাররা আপনার ফোনে থাকা বিভিন্ন কনটেন্ট যেমন, ইমেইল, টেক্সট, ছবি প্রভৃতি নিয়ে নিতে পারে। যদি আপনার প্রায়ই বাইরে থাকা অবস্থায় ফোন চার্জ দিতে হয়, তবে পোর্টেবল চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখা আপনার জন্য ভালো উপায় হতে পারে।

ভুল ধারণা ৪ – নতুন ফোন/ফোনের ব্যাটারি ব্যবহারের পূর্বে ফোনকে টানা ৮ ঘন্টা চার্জ দেওয়া উচিত।

সঠিক তথ্যঃ আপনার ফোনে ইতোমধ্যেই কিছু চার্জ দেয়া আছে, এবং শুরুতে টানা ৮ ঘন্টা চার্জ দেয়ার ধারণাটি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে খাটেনা। তবে প্রথমবার ব্যবহারের আগে ফোনে ফুল চার্জ করে নেয়া ভালো, তাতে এটি সেটাপ করার জন্য আপনার আর মাঝপথে চার্জ দেয়ার দরকার হবেনা।

ভুল ধারণা ৫ – ফোনের চার্জ সম্পূর্ণ শেষ না হলে চার্জ দেওয়া উচিত না।

সঠিক তথ্যঃ আসলে আপনার উচিত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির চার্জ একদম শেষ হয়ে যাবার আগেই তা পুনরায় চার্জ দেওয়া। এধরনের ব্যাটারি তাদের ক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকেনা, এবং যখন চার্জ দেওয়া হয়, তখন পূর্বের মত চার্জ হয়না-  বলেছেন স্যামসাংয়ে কর্মরত একজন ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার সের্জিও ফ্লোরেস। বড় কিছু নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে, কিন্তু এর পরও অনেক মডেলের ফোনে এই সমস্যা আছে।

ভুল ধারণা ৬ – একটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যাটারির বেশি চার্জ খরচ করতে পারেনা।

সঠিক তথ্যঃ একটি অ্যাপও, যেমন ফেসবুক অ্যাপ, আপনার স্মার্টফোনের বেশিরভাগ শক্তি ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট। এমনকি আপনি ব্যবহার না করলেও। এসব অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারে বা করে থাকে। কিছু ব্যবহারকারীর মতে, ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন আনইনস্টলের ফলে ফোনের অন্য অ্যাপ আরো ১৫ শতাংশ দ্রুত কাজ করে ও ফোনের চার্জ ২০ শতাংশ বেশি সময় থাকে।

ভুল ধারণা ৭ – ফোন বন্ধ করার কোনো দরকার নেই।

সঠিক তথ্যঃ অনেক ব্যবহারকারী কাজের পর অ্যাপ্লিকেশন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করেননা, এতে অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। যদিও সব অ্যাপ অনেক চার্জ নষ্ট করতে পারেনা কিন্তু যত চলতে থাকবে ততই ব্যাটারি লাইফ কমতে থাকবে। সপ্তাহে অন্তত একবার আপনি ফোনটি বন্ধ করে আবার চালু করুন, এটা হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার- উভয়ের জন্যই ভাল।

ভুল ধারণা ৮ – চার্জে দেয়া অবস্থায় ফোন স্পর্শ করা উচিত না।

সঠিক তথ্যঃ আপনি নিশ্চিন্তে চার্জ দেবার সময় ফোন ব্যবহার করতে পারেন। স্যামসাং ইঞ্জিনিয়ার ফ্লোরেসের ভাষ্যমতে, যদিও আপনি যখন আপনার ফোন চার্জ দিচ্ছেন, এটি সবসময়ের মত ব্যাটারির ক্ষমতা ব্যবহার করেনা (চার্জার থেকে আসা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে)। তবে ফলাফল এবং সার্কিটের কার্যক্ষমতা সবসময় একই হয়।
অবশ্য, চার্জের সময় চালু থাকা বিভিন্ন অ্যাপে বাড়তি কাজ হলে স্মার্টফোনে চার্জ ফুল হতে দেরি হবে। তাই আপনি যদি দ্রুত চার্জ পেতে চান তবে চার্জিং সময়ে ফোন ব্যবহার না করা উচিত।

ভুল ধারণা ৯ – চার্জিং পোর্ট মিলে গেলেই যেকোনো চার্জার ব্যবহার করা যায়।

সঠিক তথ্যঃ অনেকে শুধুমাত্র ফোনের চার্জিং পোর্ট মিলে গেলেই যেকোনো চার্জারে ফোন চার্জ করেন। কিন্তু এসব চার্জার ফোনের ক্ষতি করতে পারে। সকল চার্জারে ভোল্টেজের সামঞ্জস্যতার সঠিক মান থাকেনা। বিদ্যুৎ প্রবাহ কম-বেশি হতে পারে। এতে ফোনের ব্যাটারি, এমনকি সার্কিট বোর্ড/চিপ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আপনার উচিত ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সুপারিশকৃত চার্জার ব্যবহার করা।

ভুল ধারণা ১০ – একটানা ওয়াইফাই চালু রাখলে ব্যাটারির ক্ষতি হতে পারে।

সঠিক তথ্যঃ স্মার্টফোনের ওয়াইফাই চালু রাখলে এটি আশেপাশের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক খুঁজতে থাকে। এভাবে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানে নিশ্চয়ই চার্জ ব্যবহৃত হয়, তবে লক্ষ্য করার মত অতটাওনা। আপনার ফোন যখন ওয়াইফাই সিগনাল অনুসন্ধান করে তখন এটি নিজের সিগনাল ব্যবহার করে জানে যে এখানে ওয়াই ফাই আছে কিনা। কিন্তু এর মানে এই না যে আপনাকে সবসময় ওয়াইফাই বন্ধ করে চলতে হবে। তবে চার্জ দেয়ার সুযোগ কম থাকলে ও ব্যাটারি খরচ কম করতে চাইলে অব্যবহৃত অবস্থায় ওয়াইফাই/মোবাইল ডেটা বন্ধ করে রাখা ভাল।
আশা করি এই পোস্টটি আপনার কাজে লাগবে। আপনি কি এই তথ্যগুলো আগে জানতেন? কমেন্ট করার আমন্ত্রণ রইল!

Facebook isn't responding সমস্যার সমাধান

অনেক সময় আমরা দেখি যে ফেসবুক ব্যবহার করতে করতে হঠাৎ করেই আমাদের মোবাইলের স্ক্রীনে “Facebook isn't responding” এই ডায়ালগ বক্সটি হাজির হয়। যেটা খুবই বিরক্তিকর একটা বিষয়। এটা কেন হয় এবং এটার সমাধানের কি উপায় এটা জানতে  নিচের পোষ্টটি ভালমত মন দিয়ে পড়ুন।

কেন এমন হয়ঃ
* এটা সাধারণত ফোনের  মেমোরী (RAM & ROM both) সল্পতার কারনে হয়ে থাকে। যত দিন যাচ্ছে ফেসবুক তাদের এ্যাপটি তত আপডেট করছে। আর আপডেট এর সাথে সাথে নতুন কিছু ফিচার এ্যড হচ্ছে, যার কারণে এ্যপের সাইজও বাড়ছে। যেটা হয়ত আপনার এক বা দুই বছর আগে কেনা এনড্রয়েড ফোনটার মেমোরীর জন্য এখন একটু বোঝা বটে। আর এই বোঝা ঠিক মত বইতে না পাললে বা বইতে বইতে হাপায় গেলে,  অনেক সময় এমন ডায়ালগ দিয়ে থাকে আপনার প্রিয় এ্যন্ড্রয়েড ফোনটি।


সমাধাণঃ  এই সমস্যা থেকে সমাধান পেতে হলে হয় আপনাকে এখকার বাজারে আপডেটেড মোবাইলটি কিনে আনতে হবে অথবা নিচের ধাপগুলো ঠিক মত ফলো করতে হবে।
  1. যদি অপ্রয়োজনীয় কোন app থাকে বা যেগুলা বেশি ব্যবহার করার দরকার পড়েনা ওগুলা uninstall করে দিন।
  2. setting > Storage গিয়ে phone memory/Internal storage এ গিয়ে Cached data clear করুন।
  3.  এখানকার  স্কীন শট টা খেয়াল করে দেখুন - Internal Storage (phone memory) এর শুধু মাত্র Apps আইটেম টা বাদে সব প্রায় ফাকা(Free).
  4. আপনিও ঠিক এমন ভাবে ফোন মেমোরী ফাকা রাখার চেষ্টা করুন। Internal Storage (phone memory) এর প্রয়োজনীয় ডাটা মেমোরী কার্ডে অথবা গুগল ড্রাইভে সরিয়ে রাখুন।
  5. তারপর সেট Restart দিন।
  6. এরপরও সমস্যা দেখা দিলে, Facebook টা একেবারে uninstall করে আবার নতুন ভাবে install করুন।
  7. আশা করি সমস্যার সমাধান পাবেন।
আর উপরের টিপস্ গুলো শুধুমাত্র ফেসবুকের সমস্যার কারণে নয়। আপনার মোবাইলটিতে এমন অন্য কোন ভারি এ্যপস্ রান করতে করতে হঠাৎ যদি হ্যাঙ্গ করে বা এরকম Not Responding ম্যাসেজ দেখায়, সেটার ক্ষেত্রেও একই ভাবে উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করুন। আশাকরি সমস্যার সমাধান হবে।

ধন্যবাদ
এ্যডমিন, ওয়ান-ক্লিক।



মাত্র কয়েক মিনিটেই শত শত Phone Contact Number সেভ্ করুন।


মাত্র কয়েক মিনিটে খুব সহজেই আপনি আপনার Android ফোনে শত শত (চাইলে হাজার হাজার) Phone Contact Number সেভ্ করে ফেলতে পারেন নিমেষেই। এমনকি সেই প্রয়োজনীয় Phone Contact Number গুলোর একটা Backup file ও তৈরি হয়ে থাকবে আপনার কাছে। যদি কোন কারণে সব ফোন নম্বর মুছে বা হারিয়ও যায় তাহলে সেটা আপনি আবার মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ঠিক আগর মত ফিরে পেতে পারবেন। 

বিষয়টা প্রথমে কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কারণ মাত্র একটা-দুইটা ফোন নম্বর ফোনে সেভ করতেই যেখানে সাধারণত আমাদের এক-দুই মিনিট সময় লেগে যায়, সেখানে মাত্র কয়েক মিনিটেই শত শত, এমনকি হাজার- হাজার ফোন নম্বর খুব সহজেই কিভাবে সেভ করা যাবে এমন প্রশ্ন অনেকের মাথায়ই আসতে পারে। নিচের টিউটোরিয়ালটা একটু মনোযোগ সহকারে পড়লেই আপনি আপনার প্রশ্নের উত্তরটা পেয়ে যাবেন। তাহলে আসুন আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক -

১। প্রথমে আপনি যেই নাম ও নম্বর গুলো আপনার ফোনে সেভ করতে চান (নিচের চিত্রের মত) সেটার একটা তালিকা MS Excel ফাইলে  তৈরি করুন (চাইলে অফিসের আগে থেকে তৈরি করে রাখা PABX List এর ফাইলটা কাজে লাগাতে পারেন।)এবং উক্ত ফাইলটি ডাটা ক্যাবেল বা অন্য কোন মাধ্যম আপনার মোবাইলের মেমোরিতে নিন।



২। এরপর আপনার মোবাইলের গুগল প্লে-ষ্টোর থেকে “Excel Contacts Export Import” নামের মাত্র ৭.৪ মেঃবাঃ এর এই ফ্রি এ্যপটা সার্চ করে, আপনার ফোনে ইনিষ্টল করে নিন।



৩। ইনিষ্টল করার পর এ্যপটা ওপেন করলে নিচের চিত্রের মত এই অপশন গুলো আসবে। যেখান থেকে “Import from Excel to Contacts" এই অপশনটাতে ক্লিক করতে হবে।

৪। উপরে উল্লেখিত অপশনটাতে ক্লিক করার পর নিচের চিত্রের মত আবার কিছু অপশন আসবে এবং সেখান থেকে  “Select an Excel file" এই অপশনটাত ক্লিক করে আগে থেকে তৈরি করে রাখা আপনার সেই Excel File টি নির্বাচন করুন।

৫। সঠিক ভাবে Excel File টি নির্বাচন করার পর নিচের চিত্রের মত আপনার তৈরি করা প্রথম Contact Number ও নামটি দেখাবে।


৬। এরপর "Save as a .vcf file" এই অপশনটাতে ক্লিক করলেই আপনার সব কন্টাক্ট নম্বরের জন্য একটি .vcf ফাইল তৈরি হয়ে যাবে। যেটা আপনার মোবাইলের ইন্টারনাল অথবা এক্সটারনাল মেমোরিতে সেভ হয়ে থাকবে। 

ব্যস্ আসল কাজ শেষ। এখন আপনি চাইলে এই .vcf (vCard)ফাইলটা দিয়ে যখন খুশি, যে এন্ড্রয়েড সেটে খুশি, যত বার খুশি আপনার সব Phone Contact Number মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সেভ করে নিতে পারবেন। আপনি চাইলে ফাইলটি আপনার ইমেল বা পেন ড্রাইভে রেখে দিতে পারেন। কেননা যদি কোন কারণে দূর্ভাগ্য বশতঃ আপনার ফোনটা হারিয়ে যায় অথবা সব নম্বর মুছে যায়, সেক্ষেত্রে আপনি পুনরায় উক্ত ফাইলটা দিয়ে মাত্র ২-৩ সেকেন্ডর মধ্যে আপনার আগের সব সেভ করা নম্বর পূর্বের ন্যায় খুব সহজেই ফিরে পেতে পারবেন।

.vcf (vCard)ফাইল দিয়ে কিভাবে ফোনে সব নম্বর Import করবেন?

১। প্রথমে আপনার ফোনের "Contacts" অপশনে যান এবং নিচের চিত্রের যেখানে লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করা আছে সেখানে ক্লিক করুন।





২। এরপর যে অপশন গুলো আসবে সেখান থেকে "Import/Export" অপশনটাতে ক্লিক করুন।


৩। তারপর নিচের চিত্রের মত এই অপশন গুলো আসবে, সেখান থেকে আপনার ফোনের Internal / External (Memory Card) যেখানে vcf (vCard)ফাইলটা রাখা আছে সেটা নির্বাচন করুন এবং "Next" অপশনে ক্লিক করুন।



৪। পরবর্তী ধাপে " Phone Contact" অপশনটি Select করুন ও "Next" অপশনে ক্লিক করুন।




৫। Congratulations!! অাপনি সফল ভাবে সকল ধাপ পার করে আপনার সব Phone Contact Number সেভ্ করতে সক্ষম হয়েছেন।


------- এত বড় লেখা দেখে হয়ত মনে হতে পারে বিষয়টা অনেক জটিল ও কঠিন। আসলে বিষয়টা খুবই Simple । যেন সবাই সহজেই সম্পূর্ণ Process টা খুব সহজেই বুঝতে পারে সেজন্য একটু ভেঙ্গে ভেঙ্গে Details লিখেছি। তাই লেখাটা একটু বড় মনে হতে পারে। 


আমাদের অনেকেরই হয়ত ব্যক্তিগত বা অফিসিয়াল প্রয়োজনে অনেক সময় একসাথে একের অধিক Phone Contact Number ফোনে সেভ্ করার দরকার হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে উপরের এই পদ্ধতির মাধ্যমে খুব সহজেই, কম সময়ে ও নির্ভূল ভাবে আপনি আপনার প্রয়োজনটি মেটাতে পারবেন।

< < ---------------------------------------------------- > >

ধৈর্য ধরে আমার আমার এই পোষ্টটি পড়ার জন্য সকলকে অনেক ধন্যবাদ। আর যদি এই পোষ্টটি ভাল লেগে থাকে বা কোন যায়গাতে বুঝতে অসুবিধা হয়, তবে অবশ্যই আপনাদের মূল্যবান Comment এর মাধ্যমে আমাকে জানাবেন। আপনাদের মূল্যবান Comments আমাকে পরবর্তীতে এরকম আরো অনেক টিপস্ বা টিউটরিয়াল লেখার বিষয়ে অনেক বেশি উৎসাহিত করবে।



সকলকে ধন্যবাদ
ফাহাদ রহমান


স্মার্ট ফোনে ফটো এডিটিং এর এক নতুন চমক Snapseed !!

স্মার্ট ফোনে ফটো এডিটিং এর এক চমৎকার এ্যাপ Snapseed ।  এ্যাপটি  Nik Software কোম্পানির তৈরি।  iOS এবং Android ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই এই এ্যাপটির মাধ্যমে ফটো enhance ও digital filters করতে পারবেন।






এই এ্যাপটির মূল ফিচারগুলো হলোঃ

  • ইমেজ টিউন।
  • ক্রোপ।
  • ইফেক্ট এবং ইনহেন্সমেন্ট।
  • অটোমেটিক এ্যাডজাষ্ট কালার এন্ড কন্ট্রাস্ট।
  • বিভিন্ন রকমের ফিল্টার।
  • ইমেজ ডি.এস.এল. আর এর মত ব্লার করা।
  • ফটোতে সিগনেচার বা টেক্স এ্যড করা।
  • আরো অনেক কিছু।


এন্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা এই এ্যাপটি গুগোল প্লে স্টোর থেকে ফ্রি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

বদলে ফেলুন আপনার স্মার্ট ফোনের এক ঘেয়ে Lock সিস্টেম।

আজকাল প্রায় সবাই স্মার্ট ফোন ব্যবহার করেন। আর নিরাপত্তার খাতিরে আপনার প্রিয় ফোনটাকে লক করে রাখাটা খুবই জরুরী। যারা স্মার্ট ফোনের ফিচারগুলোর সাথে মোটামুটি ভাবে পরিচিত তারা নিশ্চয় তাদের প্রিয় ফোনটিকে লক করে রাখেন এবং ফোনকে লক করে রাখার জন্য ডিফল্ট হিসাবে ফোনের সিকিউরিটি সেটিং এ বেশ কিছু অপশন  দেওয়া থাকে সেগুলোও নিশ্চয় জানা আছে আপনাদের সবার। এই যেমন প্যটার্ন্ট লক, পিন লক, পাসওয়ার্ড ইত্যাদি।



এক ডিফল্ট লক গুলো ব্যবহার করতে করতে যদি বোরিং হয়ে যান, যদি এক ঘেয়ে লাগে তাহলে ব্যবহার করুন Knock Lock এই এ্যাপটি। খুব ছোট একটি এ্যপটি সহজেই ফ্রি পেয়ে যাবেন আপনার প্লে স্টোর থেকে। আজই ব্যবহার করুন আর নতুন লক সিস্টেমের এক্সপ্রিয়েন্স নিন। 


অপেরা মিনিতে কিভাবে ফেসবুকের বন্ধুদের নাম ট্যাগ/mention করবেন?

আমরা পিসিতে অথবা এন্ড্রয়েড এর ফেসবুক এ্যপসে সহজেই @ চিহ্ন ব্যবহার করে কারো নাম ট্যাগ বা mention করতে পারি। কিন্তু যারা অপেরা মিনি ব্যবহার করি তাদের ক্ষেত্রে এভাবে সেটা আর করা যায় না। মন খারাপ করার কিছু নেই। অপেরা মিনি ব্যবহার করেও আপনি আপনার কমেন্ট বা স্টাটাসে আপনার বন্ধুদের নাম ট্যাগ/mention করতে পারবেন। কিভাবে সেটা করবেন জানা যাকঃ


 ১। প্রথমে যে বন্ধুর নাম আপনার কোন স্টাটাস বা কমেন্টে ট্যাগ বা mention করতে চান সেই বন্ধুর প্রফাইল ID টা কপি করতে হবে।





প্রফাইল ID কিভাবে পাবেন?
ক) প্রফাইল ID পেতে হলে তার প্রফাইলে যান, তারপর address bar এর URL থেকে ঐ বন্ধর প্রফাইল ID টা পেয়ে যাবেন। যেমনঃ www.facebook.com/profile.php?id=100000203439316

“id=” এর পর যে নম্বর গুলো আছে সেটা প্রফাইল ID। অর্থাৎ এখানে প্রফাইল ID টা হল 100000203439316

খ) কারো যদি user name সেট করা থাকে তাহলে প্রফাইলে গেলে তার প্রফাইল ID এর বদলে তার  user name  দেখাবে। সেক্ষেত্রে তার প্রফাইল পিকচারে ক্লিক করুন তারপর নিচের address মত url পাওয়া যাবেঃ
https://www.facebook.com/photo.php?fbid=100000203439316&set=a.
এক্ষেত্রে fbid= এর পর যেটা আছে সেটাই প্রফাইল ID। এখানে 100000203439316 টা প্রফাইল ID।

২। এখন স্টাটাসে অথবা কমেন্টে বন্ধুর নাম ট্যাগ বা mention করতে নিচের format অনুযায়ী লিখতে হবে। যেমনঃ --------
@[Profile ID:] যা স্টাটাসে বা কমেন্টে লিখতে চান সেটা
@[100000203439316:] দোস্ত কেমন আছো?

 





কিভাবে মোবাইলে টরেন্টের মাধ্যমে ফাইল বা মুভি ডাউনলোড করবেন?

আমরা অনেকেই টরেন্টের নাম শুনেছি বা এর কাজ সম্পর্কে মোটামুটি ধারণ আছে। তারপরও যারা একেবারে নতুন তাদের সহজে বোঝার জন্য শুধু এটুকু বলছি যে, অনেক ফাইল যেমন: ইবুকস, রিপোর্ট, গান, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট বা মুভি আছে যেটা সরাসরি গুগল (Google) সার্চ দিয়ে ঠিক মত পাওয়া যায় না বা পেলেও সেটা আপনার প্রয়োজনকে ঠিকমত মেটাতে পারে না। কিন্তু এসকল ফাইল বা মুভি টরেন্টের মাধ্যমে খুব সহজেই পাওয়া যায় এবং ডাউনলোড করা যায়।


আমরা কেউ কেউ আছি হয়ত জানি না যে কিভাবে টরেন্টের মাধ্যমে মোবাইল সেটে (এ্যন্ড্রয়েড) ফাইল বা মুভি ডাউনলোড করতে হয়। কাজটা কিন্তু মোটেই কঠিন না। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কিভাবে মোবাইল দিয়ে টরেন্ট ফাইল বা মুভি ডাউনলোড করতে হবেঃ --

১। মোবাইল সেট দিয়ে টরেন্ট ফাইল বা মুভি ডাউনলোড করতে আপনার সেটে টরেন্ট এ্যাপসটা ইনিষ্টল থাকতে হবে। 

২। আপনার সেটে টরেন্ট এ্যাপসটা ইনিষ্টল না থাকলে প্লে-ষ্টোর থেকে এ্যাপসটা ফ্রি ডাউনলোড করে ইনিষ্টল করে নিন। 

৩। তারপর আপনি যে ফাইল বা মুভি ডাউনলোড করতে চান তার টরেন্ট লিংক ফাইলটা ডাউনলোড করে, সেটাতে ক্লিক বা ডাবল ক্লিক করুন ব্যাস আপনার মুভি বা ফাইলটি ডাউনলোড শুরু হয়ে যাবে।

*** টরেন্ট কি এবং পিসিতে টরেন্ট ডাউনলোড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

এন্ড্রয়েডে মাত্র ৯০০ কিলো-বাইটের বাংলা কি বোর্ড

বেশীর ভাগ অ্যান্ড্রয়েড ব্যাবহারকারী বন্ধুরা রিদ্মিক কি বোর্ড ব্যাবহার করেন ৷ আজ আমি আর একটা বাংলা কি-বোর্ডের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। কি-বোর্ডটার নাম হলঃ MultiLing keyboard.

এই কি বোর্ড মাত্র ৯০০ কিলো-বাইটের, কিন্তু পৃথীবির এমন কোনো ভাষা নেই যা এই কি বোর্ডে সাপোর্ট করেনা ৷ আপনার ডিভাইসেও এত ভাষা সাপোর্ট করেনা যত ভাষা এই কি বোর্ডে সাপোর্ট করে, মোট ১৭৬ রকম ভাসা সাপোর্ট করে, আরবি ভাষা সহ ৷

রিদ্মিকের  সব ফন্ট তো পুরো পুরি সামনেই থাকেনা, বারে বারে এ্যারো চেপে চেপে অক্ষর খুজতে হয় ৷হয়তো অনেকে এভাবে রিদ্মিকে লিখতে অসুবিধা বোধ করেন তারা MultiLing keyboard টা ব্যাবহার করে দেখতে পারেন ৷

আমার বিশ্বাস যদি কেউ এটা কদিন ব্যাবহার করে তাহলে সে আর অন্য কোনো কি বোর্ডের নাম করবে না ৷মন চাইলে ব্যাবহার করে দেখতে পারেন ৷


  ইনিষ্টলেশন পদ্ধতিঃ
১। ডাউনলোড করা জিপ ফাইলটি আনজিপ করে MultiLing Keyboard এবং MaltiLang bangla plugin নামে দুইটা এ্যপস পাবেন, আপনার মোবাইলে সেই apps দুটোই ইনিষ্টল করুন ৷
২। Enable MultiLang ক্লিক করে MultiLang keyboard অপশনে টিক দিন ৷ 
৩। Switch IME to MultiLang ক্লিক করে আবার MultiLang keyboard অপশনে টিক দিন ।
৪। Enable language ক্লিক করে আপনার দরকারি ভাষায় টিক দিয়ে দিন ৷

একটি দরকারি কথা enable language অপশনে আগে থেকে ইংরেজি সহ আরো তিনটি ভাষায় টিক দেওয়া থাকে, ওই তিনটি ভাষা থেকে টিক তুলে দিয়ে, ব্যবহারের সুবিধার্তে শুধু মাত্র ইংরাজী এবং বাংলা এই দুইটা ভাষাতেই টিক দিয়ে রাখুন। বাংলা এবং ইংরাজী ছাড়া আপনার যদি আরো কোন ভাষার দরকার হয় তাহলে সেটাতেও টিক দিয়ে একটিভ করতে পারেন।

টাইপ করার সময় স্পেস বাটন কিছুক্ষন চেপে ধরলেই ভাষা পরিবর্তন মেনু আসবে, আপনি আঙুল না তুলে যে ভাষাটি দরকার সেটার উপরে swipe করে ওই ভাষার পরে রাখলেই হবে ৷ অথবা স্পেসবারের ডানে অথবা বামে swipe করলেও হবে।

আর একটা কথা টাইপ করার সময় বারে বারে এ্যারো চাপার দরকার নেই আপনার যেটার দরকার সেটার উপরে কিছু কিছুক্ষন চেপে ধরে রাখলেই উপরের ছোট অক্ষরটা আসবে।

ফোনের ডিলিট হয়ে যাওয়া মেসেজ ফিরিয়ে আবার আনুন !

ভুলে কিংবা ইচ্ছে করে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কোনো মেসেজ ডিলিট করে ফেললেও তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে কাজটি করতে হবে ডিলিট করার পরপরই। কারণ ডিলিট করা মেসেজ গুলো যে মেমোরি টুকু দখল করে রেখেছিল সে স্থানটা অন্য কোনো ডাটা দখল করে নিলে ডিলিট করা মেসেজ ফিরিয়ে আনা আর সম্ভব হবে না।


ডিলিট করা মেসেজ গুলো ফিরিয়ে আনার অনেক সফটওয়্যার পাওয়া যায়। এসব অ্যাপের কার্যক্রম প্রায় একই রকম। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় তিনিট সফটওয়্যার হলো:-

১. Coolmuster Android SMS+Contacts Recovery
২. Wondershare Dr. Fone for Android (শুধু রুট সুবিধা থাকা ফোনের জন্য)
৩. Android Data Recovery


যেভাবে ডিলিট হওয়া মেসেজ ফেরত আনবেন
প্রক্রিয়াটা প্রায় সবগুলো সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে একই রকম। আমরা এক্ষেত্রে Wondershare Dr. Fone for Android এর পদ্ধতিটি আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো:

১. উপরের তিনটি সফটওয়্যারের যে কোনো একটি ডাউনলোড করে কম্পিউটারে ইন্সটল করুন।
২. এরপর ইউএসবি ক্যাবল দিয়ে কম্পিউটারের সঙ্গে আপনার ফোনটিকে কানেক্ট করতে হবে।
৩. এক্ষেত্রে আনপার ফোনে অবশ্যই ইউএসবি ডিবাগিং মুড অ্যাক্টিভ করা থাকতে হবে।
৪. পিসির সঙ্গে ফোন কানেক্ট হলে পরের ধাপগুলোতে স্টার্ট আর নেক্সট করে যেতে হবে।
৫. চার নম্বর ধাপের কাজ শেষ হলে আপনার ফোনের ডিলিট হওয়া মেসেজসহ সব মেসেজ দেখাবে। সেই তালিকা থেকে আপনার প্রয়োজনীয় মেসেজগুলো ফেরত আনতে পারবেন। তবে মাথায় রাখতে হবে কাজটা খুব দ্রুত করতে হবে। কারণ ডিলিট হওয়া মেসেজের জায়গায় অন্য কোনো মেসেজ সেভ হয়ে গেলে তার ফেরত পাওয়া সম্ভব না।


এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আরো কার্যকর উপায় হলো SMS Backup & Restore নামের অ্যাপসটি ব্যবহার করা। গুগল প্লে থেকে অ্যাপসটি নামিয়ে নিয়ে খুব সহজেই ফোনের মেসেজগুলো ব্যাকআপ  রাখতে পারবেন। এজন্য পিসির কোনো দরকার হবে না। ফলে কখনো মেসেজ ডিলিট হলেও আর আপনাকে সমস্যায় পড়তে হবে না।